Beef Cow

সিন্ধি গরু
স্থানীয় নাম: সাইন্ধি , লাল করাচী
উৎ‌পত্তি: পাকিস্তানের করাচী ও হায়দ্রাবাদে প্রধানত সিন্ধি জাতের গরুর আদি বাসস্থান৷
বিস্তার: উৎ‌পত্তি পাকিস্তানে হলেও বাংলাদেশ, ভারতসহ অনেক দেশে এ জাতটির বিস্তার রয়েছে।
বৈশিষ্ট্য: এ জাতের গরুর গায়ের রং গাঢ় লাল ও চকলেট বর্ণের হয়ে থাকে। গাভী অপেক্ষা ষাঁড়ের গায়ের রং বেশি গাঢ় হয়। মাথা ও মুখমন্ডল ছোট, চওড়া কপাল, কপালের মাঝের অংশ কিছুটা উঁচু। ষাঁড়ের চূড়া বেশ উঁচু, গলকম্বল বৃহদাকার ও ভাঁজযুক্ত। ওলানের গঠন বেশ সুন্দর, নাভী চামড়া বড় ও ঝুলন্ত। ষাঁড়ের ওজন ৩৮০-৪৫০ কেজি এবং গাভীর ওজন ২ঌ০-৩৪০ কেজি৷

‘স্থানীয়’ জাত

লোকাল বা স্থানীয় জাতের গরু দেশের প্রায় সব এলাকায় পাওয়া যায়। দেশে মোট স্থানীয় জাতের গরুর মধ্যে ৮০ শতাংশই এ জাতের। তুলনামূলকভাবে ছোট এ জাতের গরু পরিণত বয়সে গড়ে ১৫০-২৫০ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। গোশতের মান অত্যন্ত চমৎকার। এ জাতের গরুতে অপেক্ষাকৃত বেশি চর্বি থাকে এবং গোশত সুস্বাদু। গায়ের রঙ লাল, ধূসর, সাদা, কালো বা এসব রঙের নানা মাত্রায় মিশ্রণ যে কোনোটিই হতে পারে। এ জাতের গরুর পশম ছোট ও চকচকে। লম্বা লেজ দেখতে অনেকটা চাবুকের মতো।

ব্রাহমা

‘ব্রাহমা’ জাতের গরু মূল উৎপত্তি যুক্তরাষ্ট্রে। খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় এটি বেশি উৎপাদিত হয়। দেশীয় জাতের গরু দৈহিক ওজন প্রতিদিন ২০০-৩০০ গ্রাম বৃদ্ধি পেলেও ব্রাহমা জাতের গরুর ওজন বাড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ গ্রাম। এ জাতের গরু হালকা ধূসর, লাল ও কালো রংয়ের হয়। পরিণত বয়সে প্রতিটি গরুর ওজন গড়ে ৫০০-৭০০ কেজি হয়।

পাবনা ক্যাটল

এ ধরনের গরু পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বেশি পাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ও বগুড়াতে এ জাতের গরু আছে। এ জাতটিকে একেবারে দেশি বলা যায় না। মূলত হরিয়ানা ও শাহীওয়াল প্রজাতির ষাঁড়ের সঙ্গে বাছাই করা কিছু জাতের গাইয়ের প্রজনন ঘটানোর মাধ্যমে জাতটির উন্নয়ন করা হয়। পাবনা ক্যাটল মূলত দুগ্ধ উৎপাদনের জন্য বেশ উপযোগী। তবে এটি থেকে বেশ ভালো পরিমাণ মাংসও পাওয়া যায়। পরিণত বয়সে এ জাতের প্রতিটি গরুর গড় ওজন ২৫০-৪০০ কেজি। এটির গায়ের রঙ সাধারণত লাল, ধূসর বা মিশ্রবর্ণের হয়ে থাকে।

মিরকাদিমের ধবল গাই

শত বছর ধরে এ গরু জোগান দিচ্ছে মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিমের খামারিরা। সাদা রঙের বিশেষ জাতের গরুগুলো লালনপালন করা হয় মূলত কোরবানির ঈদে চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখেই। মোটা, গায়ের রঙ ধবধবে সাদা, আর আকর্ষণীয় শিংগুলো খাড়া, চোখ কাজল কালো আর তুলতুলে শরীর। ভারতের উড়িষ্যার জঙ্গলি, নেপালের নেপালি, ভুটানের বুট্টি গরু কিনে মিরকাদিমে লালনপালন করে কোরবানি ঈদে বিক্রি করার জন্য। এ ধরনের গরুর বাহ্যিক অবয়ব খুব তেলতেলে ও গোলাকৃতির হয়। মাংস মোলায়েম ও সুস্বাদু। এ জাতের গরুতে প্রচুর চর্বি হয়।

চাঁটগাইয়া লাল গরু

গায়ের রং লাল। খাটো পা। আকারে ছোট। ওজন তিন থেকে সর্বোচ্চ দশ মণ। চট্টগ্রাম অঞ্চলে উৎপত্তি ও বিস্তার লাভ করায় এটি ‘চাঁটগাইয়া গরু’ নামে পরিচিত। রেড চিটাগং ক্যাটল বা সুন্দরী গরুও বলা হয়। গরুর দেশি জাতগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামের লাল গরু তুলনামূলক উন্নত। দুধ ও মাংস উৎপাদনের পাশাপাশি চাষাবাদের জন্য এ জাতের গরুর বেশ উপযোগিতা রয়েছে। এ ধরনের গরুর দুধ ও মাংস বেশ সুস্বাদু। চট্টগ্রাম তো বটেই, অন্য জেলার বাসিন্দাদের কাছেও এ গরুর বেশ চাহিদা রয়েছে।

শাহীওয়াল

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের শাহীওয়াল জেলায় এ জাতের গরুর আদিবাস। উৎপত্তি পাকিস্তানে হলেও বাংলাদেশ, ভারতসহ অনেক দেশে এ জাতটির বিস্তার রয়েছে। ধীর ও শান্ত প্রকৃতির, ভারি দেহ, ত্বক পাতলা ও শিথি। পা ছোট, শিং ছোট ও পুর, এ জাতের গাভীর শিং নড়ে, মাথা চওড়া। লেজ বেশ লম্বা, প্রায় মাটি ছুঁয়ে যায়, লেজের গোড়ায় দর্শনীয় একগোছা কালো লোম থাকে। কোরবানির হাটে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এ জাতের গরু। পরিণত বয়সে এ জাতের প্রতিটি গরুর ওজন ৩৫০-৪৫০ কেজি পর্যন্ত হয়। মাংস মোলায়েম ও সুস্বাদু।

ছোট পায়ের ভুট্টি গরু

ছোট আকারের এই গরুগুলোকে বাছুর বলে মনে হবে। কিন্তু এগুলো আদতে বাছুর নয়। ভুটান থেকে আসা গরুগুলোর নাম ‘ভুট্টি’ গরু। আর দশটা গরুর সঙ্গে এর অমিল হলো গরুগুলো বেঁটে আকারের। পা খানিকটা ছোট। এই জাতের গরুর শিং খুব বেশি বাড়ে না। বয়স্ক ভুট্টি গরুর শিংগুলোও আকারে ছোট। ভুটানি জাতের ভুট্টি গরু আকার যা-ই হোক, ভুট্টি গরুর দামটাও সহনীয়।

বেমক্কা কুঁজের নেপালি গরু

নেপালি গরু আকৃতিতে বিশাল, গরুগুলো দেখতেও বেশ আকর্ষণীয়। দেশি গরুর মতো এর পিঠে কুঁজ আছে বটে, কিন্তু তা বাঁকা। এদের কুঁজ পিঠের একদিকে হেলে থাকে। আরেকটি বিশেষত্ব হলো, এর মুখের অংশটা খানিকটা ভোঁতা আকৃতির। মুখ ভোঁতা, লাল আর খয়েরি রঙের বড় জাতের গরুগুলো মূলত নেপালি জাত। অবশ্য দেশে এখন নেপালি জাতের সঙ্গে দেশি জাতের সংকর করা হচ্ছে। নেপালি জাতের গরু কিনতে হলে বাকা কুঁজ আর ভোঁতা মুখ মিলিয়ে কিনতে হবে।